বায়ু দূষণ

বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

0

বায়ুমণ্ডলীয় গ্যাসীয় দূষক পরিষ্কারকরণ পদ্ধতি - Atmospheric cleaning processes

গ্যাসীয় দৃষক নির্গমন দূরীকরণ প্রযুক্তিই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি গুরুত রাখে। যে সকল ক্ষেত্রে দূষক নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না সেক্ষেত্রে এ পদ্ধতি প্রয়ােগ করা যায় এবং মূল গ্যাসীয় প্রবাহ হতে দৃষক দূর করতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি প্রয়োজন । উৎপত্তিস্থলে দূষক নির্গমন নিয়ন্ত্রণের জন্য এ পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। কারণ উৎপত্তিস্থলে দূষক আয়তন অনেক কম থাকে ।

কিন্তু ঘনত্ব অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে । উৎসস্থল থেকে গ্যাস যত দূরে যায়, ততই দৃষক গ্যাস অন্যান্য গ্যাসের সাথে মিশে যায় । যন্ত্রপাতি আকার নির্ভর করে কতটুকু গ্যাস পরিশােধন করা হবে তার উপর।

বায়ু দূষণ নির্গমন নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতিকে দু’ভাগে ভাগ করা যায় তা হল 

  • বস্তুকণার নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি – Particulate control type
  • গ্যাস এবং ঘ্রাণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি – Gases and odour control type

গ্যাসীয় দূষকের ক্ষেত্রে দুটি বিকল্প শ্রেণি বা পদ্ধতি সহজলভ্য। প্রথম শ্রেণিটি আবার দুটি পদ্ধতির সমন্বয়ে গঠিত, যেমন- আদ্র শোষণ, Wet absorption এবং শুষ্ক শোষণ Dry absorption পদ্ধতি। দ্বিতীয় শ্রেণিটি দূষকের রাসায়নিক অল্টারেশনের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা দহন অথবা ক্যাটালাইটিক ইনসিনারেশনের ভিতর দিয়ে সম্পন্ন হয়।

বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায়

  1. অভিকর্ষ থিতানাে প্রকোষ্ঠ (Gravitational settling chamber)
  2. সাইক্লোন পৃথকীকরণ যন্ত্র (Cyclone separator)
  3. ফেব্রিক ফিল্টার পদ্ধতি (Fabric filter method)
  4. ব্যাগহাউজ (Baghouse)
  5. ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর (Electrostatic precipitator)
  6. আর্দ্র সংগ্রাহক যন্ত্র (Wet scrubber)
  7. স্পে টাওয়ার (Spray tower)
  8. কেন্দ্রাতিগ স্ক্রাবার (Centrifugal scrubber)
  9. প্যাকড বেডস (Packed beds)
  10. ভেনচুরি স্ক্রাবার (Venturi scrubber)

ইলেকটোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর পদ্ধতিতে বায়ু দূষণ রোধে করণীয়

ক্ষুদ্র আকারের কণা অপসারণের জন্য ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর (Electrostatic precipitator) পদ্ধ৷ ত” মিত গ্যাস দুটি ইলেকট্রোড-এর ভিতর দিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।একটি ইলেকট্রোড হচ্ছে উচ্চ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং অন্যটি হচ্ছে ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্লেট বা সিলিন্ডার। ২ টি ইলেকট্রোড মধ্যে চার্জের পার্থক্য (25–100 kV) নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

উচ্চ চার্জের পার্থক্যের জন্য আয়নিক অবস্থার সৃষ্টি হয়, সে কারণে ( – ) ইলেকট্রোডের কাছাকাছি একটি ক্রিয়াশীল অবস্থার সৃষ্টি হয় এবং একে CORONA বলে। ঋণাত্মক আয়ন ( + ) ইলেকট্রোড দিকে যাওয়ার সময় কণাকে চার্জিত করে। তখন চার্জিত প্লেট চার্জিত কণাকে আকর্ষণ করে এবং জমা করে।

বায়ু দূষণ রোধে করণীয়

 

  • স্টিল ইন্ডাস্ট্রি হতে আয়রন অক্সাইড, ডাস্ট ও স্মােক অপসারণে ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর ব্যবহৃত হয়।
  • মেটালার্জিক্যাল [Metallurgical (non-ferrous)] ইন্ডাস্ট্রিতে স্মােক, ফিউম, তেল, গ্রিজ ইত্যাদি অপসারণে।
  • সিমেন্ট, ফসফেট, জিপসাম, অ্যালুমিনা ইত্যাদির প্রসেসিং-এ যে ডাস্ট উৎপন্ন হয়, তা অপসারণে এটি ব্যবহৃত হয়।
  • ক্রাফট পেপার মিল হতে রাসায়নিক ডাস্ট অপসারণে।
  • সালফিউরিক, ফসফরিক ও নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করার সময় যে অ্যাসিড মিস্ট, ডাস্ট ইত্যাদি তৈরি হয়, তা অপসারণে ।
  • ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটরগুলােকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়-
  1. লাে-ভােল্টেজ দু’স্টেজ ইউনিট,
  2. হাই-ভােল্টেজ

সিঙ্গেল স্টেজ ইউনিট। প্রথমটি ৬০০০-১২,০০০ ভােল্টেজ-এ পরিচালিত হয় এবং এটি হসপিটাল, কমার্শিয়াল এলাকার এয়ারকন্ডিশন সিস্টেমের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবহৃত হয়। এগুলাে মূলত লিকুইড পার্টিকেলকে সংগ্রহ করতে ব্যবহৃত হয় এবং এগুলাে কাঠন ও আঠালাে মেটেরিয়াল নিয়ন্ত্রণে সচরাচর সুপারিশ করা হয় না।

  • হাই-ভােল্টেজ সিঙ্গেল স্টেজটি ৩০,০০০-১,০০,০০০ ভােল্টেজ রেঞ্জে পরিচালিত হয় এবং এগুলাে বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্ল্যান্ট, যেমন- কয়লা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বয়লার ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
  • পাওয়ার জেনারেশন ইন্ডাস্ট্রিতে যে কয়লার ডাস্ট, ফ্লাই অ্যাশ ইত্যাদি বের হয়, সেগুলাে অপসারণে ব্যবহৃত হয়।

ভেনচুরি স্ক্রাবার পদ্ধতিতে বায়ু দূষণ প্রতিরোধের উপায় - Venturi scrubber

এ ক্রাবারে গ্যাস এবং তরলের প্রবাহ সমমুখী। পূর্ণ কর্মক্ষমতা কাজে লাগানাের জন্য অনেক বেশি শক্তিপ্রবাহ প্রয়ােজন। এটি একটি আর্দ্র সংগ্রাহক, যার আকার ভেনচুরি মিটারের মতাে। ভেনচুরি টিউবের ভিতর দিয়ে ৬০-১০০ m/s বেগে গ্যাস প্রবেশ করানাে হয়। ভেনচুরি টিউবের মাত্রায় তরল পদার্থ স্প্রে করার জন্য স্কু থাকে। পতিত পানির সাথে গ্যাস বিদ্যমান কণা সংগৃহীত হয় ।


বায়ু দূষণ প্রতিরোধে সুবিধা – Advantages

  • ক্ষুদ্র কণার জন্য কার্যকারিতা বেশি।
  • যেখানে পরিষ্কারকরণ কঠিন সেখানে এটা ব্যবহার করা যায়।

 

বায়ু দূষণ প্রতিরোধে অসুবিধা – Disadvantages

  • উচ্চচাপ পতন 
  • ডিজাইন এবং পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ লােকের প্রয়ােজন হয়।

প্যাকড টাওয়ার পদ্ধতিতে বায়ু দূষণের কারণ ও প্রতিকার

গ্যাস এবং তরল পদার্থকে পৃথক করার জন্য প্যাকড টাওয়ার একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এখানে বিভিন্ন ধরনের প্যাকিং পদার্থ ব্যবহার করা হয়। প্যাকড বেড় টাওয়ারে অতিরিক্ত একটি বেড থাকে, যা সিলিন্ডার আকৃতির ট্যাঙ্কে সম উচ্চতায় স্থাপন করা হয়। প্যাকড বেড় টাওয়ার, স্প্রে টাওয়ারের মতাে (নিচে বর্ণিত)।

প্রবেশ্য গ্যাস বেডের তল দিয়ে প্রবাহিত করা হয়। এ সময় গ্যাস ও বেডের মধ্যে সংযােগ ঘটে। যখন। গ্যাস এবং কণা বেডের উপরিভাগে পৌছায় । তখন স্প্রে তরল কণাজাতীয় পদার্থকে আটকাতে পারে এবং ধৌত তরলের সাথে বহন করে নিয়ে যায়। ০.২-১০ মাইক্রন আকৃতির কণা এ পদ্ধতিতে পৃথক করা যায়।

প্যাকড বেড টাওয়ারের সাহায্যে একই সাথে কণা এবং গ্যাস পৃথক করা সম্ভব। এ টাওয়ারে গ্যাস উপরের দিকে প্রবাহিত হয় এবং পানি নিচের দিকে প্রবাহিত হয়। গ্যাস পরিষ্কারক হিসেবে প্যাকড টাওয়ারের ব্যবহার খুবই সীমিত। কারণ, পানি বা ময়লা এ টাওয়ারের প্যাকিং বেডকে সহজেই বন্ধ করে দেয়।

Choose your Reaction!
Leave a Comment